Automobile

Automobile Engineering

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির সূত্রানুসারে ঢাকা শহরে মোটরগাড়ির সংখ্যা সাত লাখ। আর সারা দেশে গাড়ি আছে ১৭ লাখেরও বেশি। এই লাখ লাখ গাড়ির তুলনায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা অনেক কম। এ রকম পরিস্থিতিতে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই চাহিদা সম্পন্ন। চাকুরীর বাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যার ‍তুলনায় অনেক কম সংখ্যক অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাশ করছে।

কাজের ধরন

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ রয়েছে—উৎপাদন, সেলস এবং সার্ভিসিং, ট্রা্ন্সপোর্ট সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট। উৎপাদন ক্ষেত্রের কাজে আবার কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন—ডিজাইন, ড্রয়িং ও ক্যালকুলেশন। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়াররাই মূলত এসব কাজ করে থাকেন। সেলস বিভাগে গাড়ি বিপণন, বিক্রয় ও বিতরণের কাজ করা হয়ে থাকে। এই বিভাগে ভালো করতেও কারিগরি জ্ঞান খুব ভালো থাকতে হয়। গ্রাহকের চাহিদা বুঝে সেই অনুযায়ী গাড়ি বাছাই করে তার ইঞ্জিন ও অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক তথ্য গ্রাহককে অবহিত করার দায়িত্ব এই বিভাগের জনবলের। অন্যদিকে সার্ভিসিং বলতে মূলত ওয়ারেন্টি বা সার্ভিস ফির মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মেরামত ও সার্ভিসিং করার কাজ বুঝানো হয়। ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট বলতে বড় বড় কোম্পানীর পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবস্থাপনার কাজ। সাধারনত অভিজ্ঞ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়াররা এই সেক্টরে কাজ করতে পারেন।

কাজের ক্ষেত্র

অটোমোবাইল শিল্পে কাজের  ক্ষেত্র এখন বেশ বিস্তৃত। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যেভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ছে, তাতে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ২৫টিরও বেশি গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করছে এবং এই শিল্পকে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করছে। আমাদের দেশে গাড়ি উত্পাদনের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের দেশে কার সার্ভিস সেন্টারের তুলনায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বেশ কম। তাই এ সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি।  এ বিষয়ে পড়ালেখা করে তাই সাধারণতই চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না। অটোমেবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরী পাবার গড় ১০০%। এছাড়া দেশের সরকারি অনেক চাকুরী ক্ষেত্রে যেমন বিআরটিএ, সেনাবাবিহিনী, নৌবাহিনী, সরকারি কলকারখানা,সহ পাওয়ার প্লান্ট ও অনেক সেক্টরে সরকারি চাকুরীর সুযোগ রয়েছে।

ম্যানগ্রোভ ইনষ্টিটিউটের অটোমোবাইল বিভাগে কেন ভর্তি হবেন?

অটোমোবাইল বিভাগ দক্ষ হয়ে পাশ করলে যেমন তার কর্মক্ষেত্রের অভাব নেই তবে দক্ষ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করবে সেখানে প্রয়োজন দক্ষ ‍ও অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী এবং তার সাথে প্রয়োজন হাতেকলমে কাজ শেখার জন্য ভাল ল্যাব ও ওয়ার্কশপ। অনেকসময় দেখা যায় পাওয়ার বা মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে পাশকৃত শিক্ষকদের দিয়ে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্লাস নেয়ানো হয়, কিন্তু বর্তমান কোর্স কারিকুলাম মোতাবেক পাওয়ার বা মেকানিক্যাল বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষকরা কয়েকটি বিষয় পড়াতে পারলেও মুল অটোমোবাইলের বিষয় সম্পর্কে পড়াতে অবশ্যই অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষক প্রয়োজন। ম্যানগ্রোভ ইনষ্টিটিউট শুরু থেকেই প্রয়োজনমত সুদক্ষ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করে আসছে। এছাড়া ম্যানগ্রোভ ইনষ্টিটিউটে ব্যাবহারিক কাজ শেখার জন্য এই বিভাগের জন্য রয়েছে মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং শপ, অটোমোবাইল ওয়ার্কশপ, ড্রইং ল্যাব, বিভিন্ন কম্পিউটার সফটওয়্যারে কাজ শেখানোর জন্য রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। এছাড়া অটোমোবাইল ওয়ার্কশপে একটি গাড়ি, একটি ৩হুইলার, ১টি বাইক ও বিভিন্ন প্রকার অটোমোবাইল ইঞ্জিন ও কম্পোনেন্টস। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য এসকল উপকরন থাকা একান্ত জরুরী।

ভর্তির যোগ্যতাঃ

যে কোন বিভাগ থেকে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষা ন্যূনতম ২.৫ জিপিএ সহ উত্তীর্ণ।

টিউশন ফিঃ

ভর্তি ফি: ৫০০০/- + ৩০০০/-

মাসিক বেতন: ১০০০/- (মেয়ে শিক্ষার্থীদের মাসে বেতন ৪০০/-)

সেমিষ্টার ফি: ৩০০০/-